কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০

ছুটির দাবি নিয়ে এসেছি



 

তখন আমি আমার সন্তানকে বলেছিলাম

কাঁধ ভর্তি কাগজের দঙ্গলমাখা বই নয়

থান থান ইট নিয়ে যেতে

আর যখনই শ্রেণীতে দাঁড়িয়ে সে

শিক্ষক বলবেন

"কে কে বাড়ি থেকে মরে আসো নাই?"

তখনই ইট তাঁর কন্ঠের বরাবর

ছুঁড়ে দিয়ে বলবে

"আমি, আমি সে জনাব

আমিই মরে আসি নাই"

আমার বর্ষার ছুটির দাবি নিয়ে এসেছি

আমি দাগ টানা ঘরে

কবর লিখিনি

আমিই এসেছি জালি-সুন্ধির বেত

হাওয়ায় উড়াতে


মোহাইমিন লায়েছ

কাফরুল, ২০১১

সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৬

শুভরাত্রি, সুন্দর স্বপ্ন দেখেন

১.
আমি ঘুমাব না স্বামী
নয়ন আড়ালে থাকিব না
যে কাজল রেখা টানিয়াছ তুমি
অশ্রুতে কাঁদিছে দেখ মেঘ
সে গাঢ় কাজলের রাত্রিতে
তুমি প্রিয়া মোর বুকে ডুবে
শ্যাম সুন্দর চম্পা মাধবি বেশে
রক্তজবা রাঙা পায়

আমি ঘুমাবো না স্বামী
মোর ঘরে আধো ঘুমের স্বপনে
এসো মধু পিঙ্গল ঠোঁটে নেই তোমায়
রহিব আর কত এ শূণ্য দেশে প্রিয়া
গোপনে এসো গো বিদেশিনী
এই কাঙালের দেশে বধূ হয়ে
শেষ করো এই রাত্রি মম

আমি ঘুমাবো না স্বামী
করুণ কান পাতিয়া শ্বাস গুণি
এসো গো সঙ্গীত তুমি মৌসুমী বাতাস
আমার দেহে আলতা পায়ে এসো নৃত্যরাজ
পথ চাহিয়া কী পেলাম গো স্বামী
সকলের নিন্দা মুখেতে বুজিয়া
তোমারে খুঁজিয়া জ্বলি ফাগুন নিশিতে

২.
সকলে ঘুমায় প্রিয়া
আমি তবু ঘুমাবো না
যদি চলে আসো হতভাগিনীর কাছে
তোমারে বাতাস করিবার ফাঁকে
কে দেখিবে তোমারে গো স্বামী
কে বা মুছাইবে শাড়ির আঁচলে
পরাণের গহীনে যে ছবি আঁকিয়াছি
তাতে কে দোল ছড়াইবে

তোমার বাঁশিতে তোমারে বাঁধিব শ্যাম
নারীর বেদনা কে জানিতে পারে
পাখি তুমি বনমালীরে দেখিলে কইয়ো
খিল নাই কলঙ্কিনীর ঘরেতে
বাহু বাড়াইয়া অশ্রুতে আঁখি ছলছল
ভীরু বুকেতে কোহেলিকা কাপিছে টলমল।

এপ্রিল ২০১৬
ইব্রাহিমপুর, ঢাকা

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৫

এই খোলতা রাতে


আহা প্রাক্তন, এই খোলতা রাতের ঘ্রাণে
শিউলি তলায় আবার তো কুড়িয়ে পেলে
ঝিনুকের পেট খুলে বেরিয়ে এসে পড়ে
চন্দ্রালোকের পথ রেখায় বসে আমি
নজরে পড়তেই তো আবার দীর্ঘকাল
রেখা সব মুছে দিয়ে দিয়ে চলে যায়
বারবার জলে ভিজে তুমি শৈবাল এক
ছোট্ট মাছেদের পৃথিবীতে শীতকালীন জলের
ভিতর রুদ্ধশ্বাস চিকীর্ষা।

ওগো প্রাক্তন, এই রসা রজনীর রোহিনী মোরা
মায়াকাননের বাসনা বর্ণ স্পর্শ চন্দিনী
ফুলেল ঘ্রাণ বাষ্প পাখিদের ন্যায়
তবু বারবার শিকারীদের কাঁটা দেখি
বুঝি মোদের বুকে প্রেম ফ্যাকাসে
রঙের নিরল আস্তরণ খসে পড়ে।


আহা প্রাক্তন, আমি বলছি না
যে মালা ভালবেসে দিয়েছ তাকে
সে মালার ফুল তুমি সুধাকর
গাঁথ নি, পুরষ্ট মন্থিত ঠোঁটে মধু চাখ নি
শুধু বলেছি যে ফুলে মালা গাঁথ
নির্নিমিখ আমাকেও গেঁথে ফেলো
মোর বুক এ ফোঁড়-ও ফোঁড়
করে পৃথিবী ঘিরে থাকা নক্ষত্রদের দিকে
নরম ধবল পালক রাশি উড়িয়ে
যখন একটিতে বসে ভাসতে ভাসতে
বাকিগুলোর নিরুপম পতন দেখ
তখন কি সেই নিরুপমতার
একটিতে এমন খোলতা রাতে
মন্থর অবিরাম বিপন্নতার পাশ ধরে
এই যে আমাকেও দেখ না?

না দেখিলে!

আমি বরং জাগরী এই খোলতা রাতে
খোলা চুলে আদুল বাতাসের সাথেই
কথা কই বৃহৎ শুভ্র তারাকে ভালবেসে
চোখ বুজে ছুঁয়ে দেই
সরস নরম ফুলের বৃন্তকে।



৩০. ০৮. ১৫
ইব্রাহিমপুর, ঢাকা

মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৪

মেঘ



অই যে আকাশের উঁচুতে যে মেঘ
ভেসে চলছে গা এলিয়ে
যেন তার কেউ নাই
সম্পূর্ণ একা, হয়তো বা ক্লান্ত
কিন্তু সদা চঞ্চল, রক্তের প্রবাহ যেমন
কিছু দেখতেছে কি মেঘ
নাকি গা এলিয়ে শুধু ভেসে চলছে
যেন তার কেউ নাই
যেন সে কেউ না
এই যে আকাশের উঁচুতে চলা মেঘ
সে কি মেঘ?
না কি আমারি মতন কেউ?
না কি আমিই ভেসে বেড়াচ্ছি
বুক জুড়ে আলগা মোরে নিয়ে
নাকি এই যে আমি
আর কেউ নই কারো
যেন কোন দিন ছিলাম না
নাকি কখনো জন্মাই নাই
বলে মৃত্যু নাই?


দেখি নি আমি রে কোন দিন
দেখি আসমানেতে
শুধু অই উঁচুতে ফোঁটা ফোঁটা বীর্যের মত
ভেসে থাকা পাঁজা পাঁজা মেঘ।


কিছু নাই
বলে কিছু আছে
আমি নাই
তবু কোথাও কি করে যেন থেকে যাই।

বুকের পাঁজরের ফাঁকে যে
সে কি আমি
নাকি অই উঁচুতে ভেসে চলা মেঘেরা
একাকী প্রেমের মত মেঘ
সদা অচেতন মেঘ
খোলা জানালায় ঢুকিতে না পারা মেঘ
ছুঁয়ে না দেয়া যে মেঘ
নাকি সে মেঘ না
আমারি মতন প্রায় দেখতে আমি
কিন্তু আমি নই
শুধু সাদা কাগজে এক ছোট্ট পোকার
মত দৌড়ে আমারি মতন আমিকে দেখাচ্ছি
আর দেখ
সেই সাদা কাগজে কবিতা লিখতে
লিখতে সেই পোকাকে প্রায় ধরে ফেলেছি
শব্দের প্রতিটা কাঠামোর ভিতর দিয়ে
এই যে  ছোট্ট পোকাটা
নাকি পোকা নয়
নাকি আমি নয়
নাকি অই উঁচুতে ভেসে চলা মেঘেরা শুধু?
যেন মেঘ নয়
আমারি মত কেউ ভেসে বেড়াচ্ছে
কোথাও একটা জানালা
খোলা পাবে বলে



কাফরুল
৬ নভেম্বর ২০১৩

সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

দেখি তুমি আছ



আমি ভাত খেয়ে কেবল আসলাম
হাইবারনেটে ছিল
দেখি ফেস আর বুক খোলা
দেখি তুমি আছ
একটা সবুজ বাতি হয়ে জ্বলে আছ

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩
কাফরুল, ঢাকা