বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৩

স্ফটিক দিনের জন্য



ঘুমোবার আগে বলেছিলে
আর সব সময়ের সাথে
দরকার ফুরিয়েছে অক্সিজেনের
বাতাসে সকল প্রতিবিম্ব মিলাবার
আগেই গাছগুলো শেকড় ছাড়াল
আমাদের চেয়ে বড় যে আসমান
এখনো স্ফটিক ভালবাসা নিয়ে
বিরাট আহবান করছে
তার দিকে ভর দিয়ে দিয়ে
আগছালো চুল মেলে গাছগুলো
চলে যায়। দূর থেকে
যত দূরে দূরবীক্ষণ পৌছে নি
তারও দূর থেকে চৈতালী হাওয়ায়
ভেসে মিলিয়ে যায় চুপচাপ
সোনালু রেণুর দিন
সেই খাঁ খাঁ নিদারুণ চত্বরে
আমার ফ্যাসফ্যাসে
প্রার্থনায় ঠিকরে পড়ে
গভীর দুঃস্বপ্নে গুঙরে উঠা পাথর।

কাফরুল
মে, ২০১২

মঙ্গলবার, ২ জুলাই, ২০১৩

এক বুনো ইঁদুর


ক্ষেত খুঁড়ে নিচে নেমে যায় এক বুনো ইঁদুর,
বোবা ধানকে পিছু নিতে বাধ্য করে দুটো দাত।
আচমকা রক্তাত ক্ষেত নিমীলিত
দৃষ্টিতে রয়-
মেঘ কিংবা সর্পের আশায়।

জুন, ২০১১ 
কাফরুল, ঢাকা

শনিবার, ২২ জুন, ২০১৩

এনকাউন্টার


চারিদিকে লাশের সংবাদ মাঝপথেই এঙ্কাউন্টারে ঝরে যাবে,
নিহত যুবকের অস্তিতে সাই টর্চ আলো
তার বাড়ী ফিরবার সম্ভাবনা ছুড়ে ফেলে গোগ্রাসে.
তবু মৃত্যু কবর ফুড়ে বেরিয়ে আসি নিহত যুবকের এক টুকরো সফেদ কাফন খোজে,
আর তোমাদের উতসর্গ দাফন গড়িয়ে পড়ে
সন্দেশ কাগজ অথবা ফর্সা মেকাপের ভীড়ে।
নিহতের হলদে দাতে নীলচে মাছি বসে তোমাদের আদরের অপেক্ষায়।

জুন, ২০১১
কাফরুল, ঢাকা

গণস্বর্গযান যাত্রা

তোমাকে নিয়ে উড়ে বেড়ালে
চোখে পড়ে ঘর্মাক্ত শ্রমজীবি রিকশা
না হয়, এককম চৌকো হাওয়াই বাহন
কিন্ত প্রলেতারিয়েত মানিব্যাগ
পিঠে খোঁচা মেরে
সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়-
চৌকো গণস্বর্গযান
অথবা
দু'জোড়া পায়ের অকপট যাত্রা।

আগষ্ট,২০১১

কাফরুল, ঢাকা।

সোমবার, ২৭ মে, ২০১৩

খুজতেছি




আমি তো খুজতেছি
তোমারেই
এমনি নাকি?
লাগবো
এমনি লাগবো
লাগতেই পারে না?
মাঝে মইধ্যে?

তোমারে খোদা হাফেয কইতে বিলা লাগে আমার


জানি একদিন আঁচল গুটায়া নিবা
বাধা দেবার চেষ্টাও হয়তো আমি করব
অবশ্যই বিরতি মাইনা
হাতের পরে শাড়ি আর থাকবো না জানি
কিন্ত, তিন-চাইরটা সূতা থাকবো
এইটা লিখিত আছে নিশ্চিতের তালিকায়।
তোমার শাড়ির সূতা
সূতা পেচায়া থাকব
আমার আঙ্গুলে।
গলায় জাফরান সূতা নিয়া
আমার আঙ্গুল গুটায়া আইবো হুইঠা গোলাপের মতো।
আমারে ঝাড়ি দিব পাঁচ পাঁচ দশ দিক দিয়া-
"ও তাই? আর বাসে সবার সামনে হাত ধরতে লজ্জা লাগে না??"
জানি মনে পড়বো।
একদা আঙ্গুলে জাফরান সূতার ফাঁস ছিল না;
তবে গুটায়া আসতো
লজ্জাবতী লতার মতো।
জানি, একদিন আঁচল গুটায়া নিবা ঠিকই
কিন্ত, শাড়িময় বাড়ন্ত লতা আটকাইবা ক্যামনে?



আগষ্ট,২০১১
কাফরুল, ঢাকা।

সোমবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৩

লেটারঃ প্রেমের চিঠি অর্থে





তোমাকে অতীতে যারা চিঠি লিখত
লিখে যায়
লিখবে লিখবে করে যাচ্ছে
অথবা  লিখিবে যারা
ডেগচি ভরে ভুরভুরা বাসনা লয়ে
বসুন্ধরা পাশে
পথে পথে পান্থজন
তারা কেউ একলা, কুকুরের মতন
লোনলী ব্রাত্য তারা


অতি দূর মরূ দেশে
যখন চিঠি কুড়াতে
একটা একটা
সেসব অজস্র চিঠিতে কী
থাকিত জানিও।
আহ!
উপহারের বেহালা যেন
প্রতি চিঠি!
এখনই বেজে উঠিবে
আমার পাঁজর ফুঁড়ে
ক্লাসিক মায়েস্ত্রো


আর কী কী ছিল?
ভোর ছিল নাকি?
ক্যামন ভোরেরা ছিল?
পানের পিকের মত ভোর
উঠিত বলে প্রতি চিঠিতে?
নাকি সোনালী মদিরা?
অনিরাপদ ভ্রমণ কেচ্ছা?
এটা সেটা?
হ্যান ত্যান?


সে সব চিঠির সুপুরুষালিত
শব্দ আমার থ্যাবড়া কুৎসিত
নাকে আজও জোর বাড়ি খায়
আমার খাটো মোকামে চলে
চিঠি পাঠের সরব আয়োজন।


যে ভোরে পাখি ডাকবে না
সে ভোরেই চিঠি দিও।
সবাইকে বিদায় দিয়ে
আমিও সেদিন লোনলী
সবাইকে এড়িয়ে গিয়ে
অটোমেটেড সিস্টেমে একা
একটু ভেবে দ্যাখো
মরূর ঝড় পেরিয়ে
সোনালী মদিরার ওপারে
একাকী খুব বোঁচা কুৎসিত কেউ
ডাক বাক্স খুলে বসে আছে
একা একা


ইস!
কী ম্যালানকলিক!






কাফরুল, ঢাকা 
৮/৪/১৩