শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

মিছিল



আর এখনো এই মশাল হাত ভূত তাড়িয়ে আসে,
তোমার হাতের প্রতীক্ষায়
ও মিছিলের দূরত্ববন্ধু, এখনো মৃত্যুকূপ খুঁড়ে যাচ্ছ কোন ইশারায়?
জানি এখনো তোমার স্বপ্ন চৌকো বিলবোর্ডে আটকে পড়ে
দমবন্ধের কালে
একবার বদলে ফেলো তোমার রংহীন রঙ্গিন পোশাক
আমদের অগ্নিপোশাকে
একবার মিছিলে আস
একবার আস মিছিলে।
শুধু একটিবার রঙ্গিন রোদ চশমা ছুঁড়ে ফেলে দেখো
তোমার রোদহীন জমাট বরফ কালো নক্ষত্রকে
জানি ঠিক তখনই প্রেমের হাতসহ চলে আসবে
আমাদের এই প্রিয় নক্ষত্রের নিচে।
দেখবে তখন বুকে দাউদাউ জ্বলা পোস্টার
অবিরাম গনগনে হাত ছুঁড়ে দেয়
মানি না, মানব না বলে প্রচন্ড মার্তন্ড ঝড়ে
আমরা তখন ছুটবো অভিন্ন আলোক কণিকার সুর হয়ে
সেই অনাকাঙ্ক্ষিত নক্ষত্রকে স্তব্ধ করব বলে।

জুলাই, ২০১১
কাফরুল, ঢাকা

শনিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

একই





 অনেকটা হেটেছি পথ এক সাথে  বন্ধু
উঠোনে ধরেছি এক সাথে রোদ কত
বৃষ্টির আকাশ মেঘ একটা একটা করে
ধরে বুক পকেটে নিয়েছি
মোদের রংধনু ছুঁড়ে দিত ছোট্ট হাত
মহাকাশের এপার ছাড়িয়ে ওপার
চত্বর জানতাম এক ছুটে সুবিশাল ।
হারাতাম প্রাণ একই অংক বইয়ে আমরা
ছুটির ঘন্টাতে একইত প্রাণ বেধে আসমান গুনে
আসতাম অসংখ্য বার মোরা  
বন্ধু, একই সাথে একই ভাবে
রাস্তাতে  হাটতাম একই আমরা
কানাগলি-গোলচক্করে একই মাথা খুইয়ে
চা কাপে নিজস্ব ছায়া মোড় চেনা রঙ
দেখে  আমাদের ইতিহাস মনে পড়ত কোন হলুদ আলোর?
জাহাজী বালক কোন চুপ আলোয় থাকত?
জেনেছি আমরা তো একই সাথে চুপ হতে
তাকে লাজুক হাসির পাঁথরের সাথে
ডুবে যেতে অন্ধকার দেখেছি  সময়ে
আমরা তো হাটতাম একই সাথে
আমরা তো গাইতাম একই গান....................

-একই, মোহাইমিন লায়েছ
কাফরুল
১৩/০৯/১২

বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৩

তুমি একটা আস্ত ভাল্লুক



তাও তো তুমি আস শিকারীবেশে
মোরে ঘিরা ঘুর
পিটপিটা চোখ ঘুরাও
কাছে চইলা আস আরো
উবু হয়া ঘ্রাণ নেও
আমার পাথর চেনা তনু
জ্যান্ত বায়ু দুনিয়ায় নাই
মরা ভাইবা চইলা যাও
আসমানে উড়াল দেও
আর আমি তোমারে ভাল্লুক ভাইবা
দম আটকায়া হুইয়াই থাকি।

বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৩

ট্যাব্বিঃ মাই ক্রোক ও ডাইল



সেবার রাতদের সাথে নয়া উপায়ন এল
যদিও ক্রমশ বিঘ্নিত
স্বস্তির টান বোঝা যায় না হয়ত
টানের চিত্র এঁকে সেবার গোল্ডমেডেল চিনেছিলাম
স্বয়ং সাইমুম ঝড় বলেছিলেন
“তুমি পারও হে
দূর্দান্ত দারুণ শিল্পী
যেন সার্কাস সার্কাস মাস্টার
কি হবে নিয়ে এইসব মেডেল ফেডেল
বরং নিয়ে যাও এই তুর্কি কুমির।”

নয়া নাফা, নয়া ন্যস্ত
ঘাড় নেড়ে নেড়ে দেখি তারে
দাঁত দেখি
পৃথিবীর সব ছুরিগুলো দাঁড়িয়ে যায়
মোটা ল্যাজের ঝাঁপটায়
ভিত নড়ে নড়ে ওঠে ফুলগাছের
তার ধূসর চোখ
আততায়ীময় প্রবৃদ্ধ বাস্তব
পিছিলা শ্যাওলাময় পিঠ
পৃথিবীতে তখন একটাই শব্দ
খাঁজকাটা খাঁজকাটা খাঁজকাটা খাঁজকাটা।



এইত দারুণ নয়া নাফা মোর
সুতীব্র এই জানোয়ার দেখলেই
সচারাচর পিঠ ঘুরে যায় আপনাতেই
কে যায় হায়
মর্মর ধ্বনি তুলিতে
হিংস্র সরিসৃপ হলেও
কোন আজগুবি কারণে
তারও আছে  বলে
রাত্রিকালীন নিস্তব্ধতা
তার ঘোলাটে দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে
জানিয়েছিল সে নরকের কাগজে
এরপর পৃথিবীতে তখন শোরগোল।

রাত্রির আবছা আবছা ছোঁয়ায়
শিকারী জানোয়ার মোর বেড়ে ওঠে
যেভাবে বাড়ে বৃক্ষের চেয়ে আগাছা
চিত্রক ফের বুঝে অনিরুদ্ধ রক্ত
শেষ নিশ্বাসদের একটা নিতে নিতে
চুপচাপ বলে যেন
তাকে পোড়ানো না হয় চন্দন চিতায়
সে নিজেই ভেসে যাবে ভাতের ফেনায়
চন্দন কাঠে তার এলার্জি আছে।

আর পৃথিবীতে তখন একটাই শব্দ
খাঁজকাটা খাঁজকাটা খাঁজকাটা খাঁজকাটা